জীবন ও সংগ্রামের মূল্য


পরিতক্ত জীবন কাউকে কী শান্তি দিতে পারে। হয়তো নয়। কিন্তু মানুষ যখন দেয়ালের সঙ্গে মিলিয়ে যেতে বাধ্য হয়, যখন নতুন কিছু পাওয়া কিংবা চাওয়ার ক্ষমতা টুকু হারিয়ে ফেলে, তখন কী জীবনকে সম্মুখ সমরে বুঝে নিতে একটু বাড়তি সুবিধে হয়? 

দার্শনিক না হয়েও বলা যায়, জীবন মানুষকে চরম রোষানলে নিয়ে গিয়ে তাকে চারিপাশের সঙ্গে বেঁধে ফেলতে সমর্থ হয়। তখনই শুরু হয় সংগ্রাম যাতে প্রকৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া যায়। 

তাহলে কী মাওবাদী আন্দোলন কে legitimise করা যেতে পারে? তারাও তো জীবনের সঙ্গে আবার জীবনের বিরুদ্ধেও লড়াই করেছে। তাই তো তাদের তথাকথিত গণতন্ত্রের উপর হামলার প্রয়াস। কিন্তু গুলির মাধ্যমে নিজের অধিকার পাওয়ার চেষ্টা তো আর বেশি রক্তক্ষয় এনেছে।

তাহলে ‘সিস্টেম’এর বিরুদ্ধে লড়াই তো আর হিংসা হানছে, আর মৃত্যুমিছিল আরও এগোচ্ছে আগুনের শিখায় পুড়ে ছাই হওয়ার লক্ষ্যে। কিংবা  নশ্বর দেহটি মাটির সঙ্গে মিশে এ পৃথিবীতে হয়ে উঠছে এক অমর নিস্পাপ প্রতিমূর্তি। 

তখন তার জীবনের সংগ্রাম, কখনো হারা কখনো জেতার কী কোনো দাম থাকবে? অবিনশ্বর হলে কী জীবনের সংগ্রাম মুছে যায়? একজন লেখক তার কাজের মধ্যে নাকি বেঁচে থাকেন। কিন্তু তা কী জীবনের মূল্য কে বাড়িয়ে তোলে?

মূল্যের মূল্যায়ণ বোধহয় অঙ্কের তাত্ত্বিকতা থেকে একটু বেশি গভীর কিংবা অঙ্কের ব্যবহার বোধহয় জীবনের মূল্য গুনতে অপরিপক্ক। তাই মানুষ সংগ্রামের মধ্যে বাঁচে নাকি সংগ্রাম মানুষের মধ্যে বাঁচে, তার নির্নয় করাটা কোনো মানুষ-শিক্ষিত মানবিক চরিত্রের উপরেই ছেড়ে দেওয়াটাই ভালো।

লিখছে জামাই-২


অতর্কীতে বিতর্কীত-



আমার মা আসলে টুইন বেবির জন্ম দিয়েছিলেন-একটি আমি হলে, আরেকটি বিতর্ক।
তার জন্যই হয়তো সুযোগ হয়েছিল স্কুল চলাকালীন এক মাস অতিরিক্ত হলিডেয়িংএর। মানুষের জীবন যেমন অদ্ভুত কিছু অভ্যাসে ভ্যাস ভ্যাস করে, তেমন অদ্ভুত কিছু অভিজ্ঞতা তেও হাঁসফাঁস করে।
অনেকেই জানেন আমি মুম্বই থাকি। যারা জানেন না, তারা না জানলেই ভালো হয়। সেইখানের নট-নটী দের কারবারে বলতে পারেন আমি বিধ্বস্ত।
কলকাতা ছাড়ার সময় যেই ‘হোক কলরব’ হয়েছিল, তা যে আমার জীবনে অবলীলায় আঁছরে পরবে তা হয়তো দীঘার সৈকতে হাফ ডজন বার বেরিয়ে আসা মন টা আঁচও করতে পারেনি।
যেই নট-নটীদের লম্ফজম্ফর কথা আমি বলছিলাম, তাদের মধ্যে প্রধান ব্যক্তিত্ব হলেন আমার জীবনের রজতাভ দত্ত-সুধাকর।
পদবী টায় আমার স্কুলের ছোঁয়া রয়েছে- যেই বিদ্যালয় আমাকে বিদ্যা কম, বরংচ বিদ্যা বালনকে কাকতারুয়ার মতো নজর দিতে বেশি শিখিয়েছে। এই সুধাকর সলোমনরাজ কে দেখে আপনার মনে হতেই পারে, আপনি ক্রীস গেইলের জ্যাঠামশাই কে দেখছেন।
বাক্য টা যদি রেসিস্ট শোনায়, তাহলে বুঝতে হবে আপনার মন টা এখনো স্বেতাঙ্গ-কৃষ্ণাঙ্গর বন্ধন পেরতে পারেনি। অবশ্য যে দেশে, এক আটপৌরে racist জাতির জনক হতে পারেন, সেই দেশের লোকেরা তো এই ধারণা মনে প্রানে পালতেই পারেন।
হাইটে ৬ ফীট হলেও বাবলু কে হারাতে পারেন নি। ভেতরে যে স্যান্ডো গেণ্জী টা পরেন, সেটা সবসময় ঘাম কে চুমু খায় আর বগলের ভাঁজগুলো শার্টের সঙ্গে চুপসে থাকে। টল, ডার্ক অ্যাণ্ড হ্যাণ্ডসাম এর বৈচিত্রময় দেশে সবাই কে যে মিঠুন চক্রবর্তীর মতো দেখতে হয়না, তার জল্জ্যান্ত উদাহরণ উনি।
ওনার নাম ডাক শুনে প্রথমে বলতে পারেন বিস্মিত হয়েছিলাম, ভেবেছিলাম হবেন হয়তা কোনো সুবিশাল ব্যক্তিত্ব। কিন্তু ‘বম্বে ভেলভেট’ দেখার পর এটা বোঝা আমার উচিৎ ছিল-perception নামক বস্তুটি অনেক সময়ই misleading.
বম্বে ভেলভেট দেখার পর যদি মুম্বাই না আসার সিদ্ধান্ত নিতাম, তাহলে বোধহয় ভালো হতো। কিন্তু তার চেয়েও বড় বিষয় হলো, সুধাকরের চালচরণ, কথাবার্তা কোনাটাই মর্মস্পর্শী নয়। সমালোচকরা বলবেন, তুমি কী শিক্ষক খুঁজছ না রাতকাটানোর রজনীগন্ধা?
না আমি অজিতেশের রজনী খুঁজছি না, না খুঁজছি না কোনো বেঁদের মেয়ে জ্যোৎসনা কে। খুঁজছি মানসিক ভাবে সম্ভ্রান্ত এক শিক্ষক কে যিনি সকাল ৭টায় প্রোজেক্ট জমা নেবেন না, যার গলা- ঘার থেকে উৎপন্ন গঙ্গোৎরী গ্লেশিয়ারের ফোঁয়ারা হাতের ভাঁজ অবধি পৌঁছোনোর পর আমার চোখ দিয়ে বেরবে না।

আর হ্যাঁ, যাকে অদ্ভুত অদ্ভুত কারণ দেখিয়ে………………(Open to interpretation)